History
Site during pre-college years
The college’s original building was built before the Partition of Bengal of 1905. As of 1904, the building was being used as the secretariat (headquarters) of the newly formed provinces of East Bengal and Assam.
In 1921, it was turned over to the University of Dhaka, which was founded that year. A part of the huge building was used as the university’s medical center, another part as the students’ dormitory, and the rest as the office of the administrative wing of the Arts faculty.
In 1939, the Dhaka University council requested the British Government to establish a separate medical college in Dhaka. The proposal was postponed because of the onset of the Second World War.[7] During World War II the medical center building became an American armed forces hospital. The Americans vacated the building at the end of the war.
In 1946, due to the partition of India, all the advanced students (From K-4 to K-1) as well as many lecturers and professors were transferred from Calcutta Medical College to start academic studies and maintain hospital facilities in the newly established Dhaka Medical College. Academic classes started on 10 July, which is celebrated as DMC Day.
Major W. J. Virgin, the head of the committee formed to establish the Dhaka Medical College, was the first principal. In the beginning there were only four departments – medicine, surgery, gynecology and otolaryngology (ENT).
Since the college did not initially have anatomy or physiology departments, the students at first attended those classes at Mitford Medical School (now the Sir Salimullah Medical College); but, after a month, Professor of Anatomy Pashupati Basu and Professor of Physiology Hiralal Saha joined the staff and their specialties were taught in ward no. 22 of the hospital.
There was no lecture hall nor dissection gallery at first. These needs were met after the construction of new academic buildings in 1955. The college did not have any student housing. Male students were allowed to reside in the Dhaka University’s student halls, but female students did not have the use of that facility.
The college and hospital premises were expanded with temporary sheds, some of which were built for outdoor services of the hospital and some for student housing. New buildings for housing, college, and hospital were constructed in phases: a dormitory for girls in 1952, a dormitory for male students in 1954–55, a new complex of academic buildings in 1955, and a dormitory for internee doctors in 1974–75.[8] A new academic and hospital building, adding 500 beds, Dhaka Medical College Hospital-2 (DMCH-2), was inaugurated by Prime Minister Sheikh Hasina on 3 October 2013.
A countrywide combined medical admission test for MBBS course is held every year under the supervision of DGHS. Students after passing Higher Secondary School Certificate or equivalent examinations with the required grades can apply for the test.
College runs 5-year MBBS course according to the curriculum developed by BMDC. A student studies Anatomy, Physiology, Biochemistry, Pathology, Pharmacology, Microbiology, Forensic Medicine, Community Medicine, Medicine & allied subjects, Surgery & allied subjects and Gynecology & Obstetrics during the course period.
The course is divided into 4 phases. Four professional examinations, one at the end of each phase, are held under University of Dhaka. After passing the fourth or final professional examination, a student is awarded with MBBS degree.
College offers MD, MS, Diploma, MPhil in 43 different subjects in affiliation with University of Dhaka and Bangabandhu Sheikh Mujib Medical University. College also runs three fellowship courses of Bangladesh College of Physicians and Surgeons in different disciplines.
Major William John Virgin, First principal of DMC
Name | Duration of the office | |
---|---|---|
From | To | |
1. Lt. Col. Edward George Montgomery | 15.08.1947 | 19.07.1948 |
2. Major William John Virgin | 01.07.1946 | 14.08.1947 |
3. T. Ahmed | 19.07.1948 | 01.01.1952 |
4. Colonel M. K. Afridi | 01.01.1952 | 20.03.1953 |
5. Nawab Ali | 21.03.1953 | 10.04.1954 |
6. A. K. M. A. Wahed | 11.04.1954 | 20.01.1955 |
7. Nawab Ali | 21.01.1955 | 01.02.1957 |
8. Md. Refat Ullah | 01.02.1957 | 01.09.1958 |
9. Habib Uddin Ahmed | 02.09.1958 | 04.06.1959 |
10. Lt. Col. M. M. Haque | 04.06.1959 | 11.09.1963 |
11. A. K. S. Ahmed | 11.09.1963 | 28.12.1963 |
12. G. Kibria | 28.12.1963 | 08.02.1964 |
13. Lt. Col. Borhanuddin | 09.02.1964 | 27.01.1969 |
14. K. A. Khaleque | 27.01.1969 | 30.12.1970 |
15. Saifullah | 01.01.1971 | 20.05.1971 |
16. M. R. Chowdhury | 25.05.1971 | 02.07.1974 |
17. M. A. Jalil | 03.07.1974 | 06.05.1976 |
18. M. A. Kashem | 07.05.1976 | 01.10.1978 |
19. Md. Shahidullah | 02.10.1978 | 25.11.1980 |
20. Mazharul Imam | 25.11.1980 | 01.10.1981 |
21. M. A. Mazed | 01.10.1981 | 02.07.1982 |
22. M. I. Chowdhury | 02.07.1982 | 31.01.1985 |
23. Mirza Mazharul Islam | 31.01.1985 | 13.12.1986 |
24. Waliullah | 13.12.1986 | 30.01.1990 |
25. M. Kabiruddin Ahmed | 31.01.1990 | 30.03.1991 |
26. Zwahurul Moula Chaudhury | 30.03.1991 | 14.01.1995 |
27. Md. Shofiullah | 14.01.1995 | 22.01.1995 |
28. M. A. Hadi | 22.01.1995 | 18.07.1996 |
29. A. B. M. Ahsan Ullah | 18.07.1996 | 19.09.1999 |
30. A. K. Md. Shahidul Islam | 19.09.1999 | 29.08.2001 |
31. Md. Abdul Kadir Khan | 29.08.2001 | 15.11.2001 |
32. Tofayel Ahmed | 15.11.2001 | 07.08.2003 |
33. Md. Fazlul Haque | 07.08.2003 | 29.09.2003 |
34. Hosne Ara Tahmin (Charu) | 29.09.2003 | 26.06.2006 |
35. Syed Mahbubul Alam | 26.06.2006 | 01.03.2007 |
36. M. Abul Faiz | 01.03.2007 | 07.01.2008 |
37. Quazi Deen Mohammad | 17.01.2008 | 09.01.2014 |
38. Md. Ismail Khan | 09.01.2014 | 13.05.2017 |
39. Md. Shafiqul Alam Chowdhury (Acting) | 13.05.2017 | 13.06.2017 |
40. Khan Abul Kalam Azad | 13.06.2017 | 31.12.2020 |
41. Md. Titu Miah | 01.01.2021 | To date |
রিপন বেগ
বাংলা আমার প্রাণের ভাষা, বাংলা আমার মায়ের ভাষা। এ বাংলা ভাষাতে কথা বলার অধিকার একদিন কেড়ে নিতে চেয়েছিল পাকিস্থানী শাসক গোষ্ঠীরা। তারা ঘোষণাও দিয়ে ছিলো উর্দু হবে রাষ্ট্রভাষা। স্বভাবতই এরকম ঘোষণাকে মেনে নিতে পারেনি বাংলার আপামর জনসাধারণ। বিঙ্গোভে, বিপন্নবে তারা ফেটে পড়েছিল। বিদ্রোহ দমন করতে শাসকরা নোংরা অস্ত্রকেও ব্যবহার করেছিল। কিন্তু বিবেকের অস্ত্রের কাছে পরাজিত হয় বন্দুকের গুলি। হয়তো প্রাণ দিতে হয়েছে আমাদের ভাই সালাম, রফিক, বরকতদের। তথাপি তারা প্রমাণ করে গেছেন। অন্যায়ভাবে প্রাণের ভাষাকে অপমান করা হলেও তা বরদাস্ত করা হবে না। পিছু হটলো শাসক গোষ্ঠী। রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেল বাংলা ভাষা।
৫২-এর ভাষা আন্দোলনে মেডিকেল ছাত্রদের রয়েছে অনস্বীকার্য ভূমিকা। সাতচল্লিশের বিক্ষোভ থেকে শু্রু করে আটচল্লিশের সীমাবন্ধ ভাষা আন্দোলন এবং বাহান্নর মর্যাদা সম্পরন্ন ভাষা আন্দোলনে মেডিকেল কলেজের ছাত্ররা রেখেছে বলিষ্ঠ ভূমিকা। এমনকি আন্দোলন করতে যেয়ে অনেক ছাত্রকে জেলের ভাতও খেতে হয়েছে। তথাপি তারা পিছু হটতে তারা রাজী নয়। সারাাণ পাহাড় সমান পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্থ থাকলেও জাতীয় সংগ্রামে তারা তারা এগিয়ে এসেছে অনেকের চেয়ে আগে। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ঊনসত্তরের গণভ্যূস্থান, স্বাধীনতা যুদ্ধ, নব্বই এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনেও তারা প্রত্যক্ষ ভূমিকা রেখেছে। ভাষা আন্দোলনে শহীদের স্মরণে প্রথম স্মৃতিসেওঁধ ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্রদের তত্ত্বাবধানেই তৈরী করা হয়েছিল। এককথায় ভাষা সংগ্রামে ঢাকা মেডিকেলের ছাত্ররা রেখেছে বিশেষ ভূমিকা।
বাহান্নতে ভাষা আন্দোলন চূড়ান্ন রূপ নিলেও সাতচল্লিশ সাল থেকেই আন্দোলন শুরু হয়। পাকিস্থানের অভ্যুথানের পর থেকে গণপরিষদে বাংলাকে উর্দুর পাশাপাশি ব্যবহারিক ভাষা হিসেবে গ্রহণ করতে নিমরাজী হওয়ায় ছাত্র সমাজ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। বিজ়োভের রেশ তখনকার মেডিকেল হোস্টেলের ছাত্রদের হৃদয়েও নাড়া দেয়। ঐ বছরের ডিসেম্বরে ভাষা বিক্ষভ সমাবেশে সেক্রেটারিয়েট ও পলাশী ব্যারাকে বেশ কয়েকজন মেডিকেল ছাত্র যোগদান করে। ১৯৪৮ সালের এগারোই মার্চের ভাষা আন্দোলনে তারা আরো সক্রিয় হয়ে উঠে। ঐ দিনকার পিকেটিং-এর সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ রেলওয়ে ওয়ার্কশপের পিকেটিং-এ মেডিকেল কলেজের আমজাদ হোসেন ও আবদুল হাই উপস্থিত ছিলেন। তারা রাজনীতিতে তখন এতটাই সক্রিয় হয়ে উঠেন যে শেষ পর্যন্ত তাদেরকে স্থানীয় কর্তিপক্ষের রক্ষনশিল নীতির কারণে পড়ালেখায় ইস্তফা দিতে হয়। পলাশী ব্যারাকে সভা ও বিঙ্গোভ মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন সাইদ হায়দার, মনিরুজ্জামান সহ আরো অনেকে। সচিবালয়ে সামনে আবদুল গনি রোডের বিঙ্গোভে অংশ নেয় আলী আসগর, জসিমুল হক, আবু সিদ্দিক মিয়া, এম আই চৌধুরী সহ বেশ কয়েকজন মেডিকেল ছাত্র। এর মধ্যে আলী আসগর ও এম আই চৌধুরী আবার অলী আহাদ গ্রম্নপের সাথে গ্রেফতারও হন। এরপর এলো বাহান পাকিস্থানের প্রধানমন্ত্রী নাজিমুদ্দিনের ২৭শে জানুয়ারীর সেই ভাষণের পর ৩১ জানুয়ারী বার লাইব্রেরী হলে মাওলানা ভাসানীর সভাপতিত্বে যে বৈঠক তাতেও মেডিকেলের ছাত্র সালাম, আজগর, মান্নাফ মোজাম্মেলসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। ঐ বৈঠকে বিভিন সংগঠন ও ছাত্রাবাস প্রতিনিধি নিয়ে সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়। এতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হতে ইউনিয়নে ভিপি গোলাম মাওলা অন্তরভুক্ত হন। একুশে ফেব্রুয়ারী এর হরতাল ও মিছিলকে ভুন্ডুল করার লক্ষ্যে ২০শে ফেব্রম্নয়ারী ঢাকায় ১৪৪ ধারা জারি করলে অন্য ছাত্রদের পাশাপাশি ঢাকা মেডিকেলেরর ছাত্ররাও বিজ়োভে ফেটে পড়ে । তারা ব্যারাকের বারান্দায় ও প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে ১৪৪ ধারা জারির প্রতিবাদ করছিলেন। সেদিনকার সেই প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রেখেছিলেন আবুল হাশিম, মনজুর হোসেন, আলিম চৌধুরী সহ আরো অনেকে। এর মধ্যে ঐ সন্ধ্যায় ফজলুল হক হল ও ঢাকা হলের নেতৃবৃন্দের সঙ্গেও লিয়াজো করা হয়। ২০শে ফেব্রম্নয়ারী রাত ৮ টার দিকে শহীদুলস্নাহ কায়সার ১৪৪ ধারা ভাঙ্গার প্রশ্নে যে মতানৈক্য দেখা দিয়েছিল সে বিষয়ে মতামত জানতে মেডিকেল হোস্টেলের বিশেষ ছয় নম্বর রুমে আসেন। এখানে প্রাথমিক আলোচনা সেরে তিনে চেšদ্দ নম্বর ব্যারাকে আবদুস সালাম, আহমদ কবীর, হুমায়ুন হাই প্রমুখের সঙ্গে দেখা করেন। তাদের এ আলোচনার ফলাফল জানা যায় সর্বদলীয় পরিষদের সভায়। অলি আহাদ ও আবদুল মতিনের ঐক্যমতে গোলাম মাওলা ১৪৪ ধারা ভাঙ্গার পড়ো অভিমত ব্যক্ত করেন। ঐ দিনের ঐ সিদ্ধাত্ম যে কতোটা গুরম্নত্বপূর্ণ ছিল তা আজকে এসে অনুমান করা যাচ্ছে। কারণ ১৪৪ ধারা ভাঙ্গার সিদ্ধান্ন না নিলে সহসাই আমরা আন্দোলনে যে জয়ী হতাম না তা কিন্তু বলা যায়।
যা হোক, পরদিন একুশে ফেব্রম্নয়ারী ১৪৪ ধারা ভাঙ্গার লক্ষে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্ররা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় জড়ো হয়। পরে তারা রাস্লায় ও হোস্টেলে মিছিল করে। এ সময় আলী আজমল গ্রেফতার হয়। শুধু বিজ়োবে অংশ নিয়েই তারা শান্ত হননি। পরিষদ অধিবেশনের কয়েকজনকে যেমন মানিকগঞ্জের আওলাদ হোসেনকে হোস্টেলে ধরে তাদের শপথ করায় যে, পরিষদের অধিবেশনে তারা রাষ্ট্র ভাষা বাংলা করার প্রস্তাব তুলবে। আন্দোলনকে আরো গতিশীল করতে কন্ট্রোলরুম স্থাপন করা হয়। পরিষদ ভবনের দিকে মুখ করে মাইকটিকে লাগানো হয় ব্যারাকের পশ্চিমে অবস্থিত আমগাছের ডালে। এখান থেকে বিভিন্ন বক্তিতা ও প্রচারের মাধ্যমে আন্দোলন আরো বেগবান করা হয়। এর দায়িত্বে ছিলেন ইয়াহিয়া। প্রচারে কন্ঠ দিতেন আবুল হাশিম, সরফুল আলমসহ আরো অনেকে। বক্তিতার স্ক্রিপ্ট থেকে শুরম্ন করে সংবাদপত্র অফিসে খবর পেওঁছে দেয়া, ইস্সাহার ছাপানো সবই করতো ঢাকা মেডিকেলের ছাত্ররা। একুশ তারিখ গুলি বর্ষনের পর এ কন্ট্রোল রম্নম থেকেই নুরম্নল আমিন সরকারের বিরম্নদ্ধে ঐতিহাসিক ভাষণটি দিয়েছিলেন মাওলনা আবদুল রশীদ তর্কবাগীশ। গুলীবর্ষনের পর আহত ছাত্রদের সেবা প্রদানে সবার আগে তারাই এগিয়ে আসে। বরকতকে ইমার্জেন্সিতে নিয়ে যান মেডিকেলের ছাত্র শফিকুর রহমান। গফগাঁওয়ের গুলীবিদ্ধ আবদুল জব্বারকে বহন করেন ২০-এর ৯নং কড়োর অধিবাসী সিরাজুল ইসলাম ও ১৮-এর ৭নং কড়োর অধিবাসী ফজলে রাবণী। কপালে গুলীবিদ্ধ রফিকউদ্দিনকে হাসপাতালে ভর্তি করেন ১৮/৯ নং হলে রম্নমের ছাত্র মোশাররফুর রহমান ও ১৮/১০ নং রামের হুমায়ুন হাই। গুলীবর্ষণের পর আন্দোলনের কর্মসূচী থেকে শুরম্ন করে প্রচার ও যোগাযোগ সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু ছিল মেডিকেল হোস্টেলে। আন্দোলনের সময় সাধন ও করতো এখনকার ছাত্ররা। একুশের সন্ধ্যার পর অলি আহাদের উদ্যোগে গোলাম মাওলার রম্নমে যে বৈঠক হয় তাতে এ মেডিকেলের ছাত্ররাই ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠ। ওখানেই আন্দোলনকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা জন্য জনাব মাওলাকে অস্থায়ী আহবায়ক করে তাড়াণিক সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়। এমন উত্তাল ভরা দিন গুলিতে ঢাকা মেডিকেল হোস্টেলই ছিল আন্দোলনের নকশা তৈরীর প্রাণকেন্দ্র। প্রায় প্রতিটি গুরম্নত্বপূর্ণ ঘটনার উৎস এ হোস্টেল এর চার দেয়াল থেকে। তাই সে সময় এর নাম ছিল ‘মেডিক্যাল ব্যারাক’।
এ ব্যারাক থেকেই সিদ্ধান্ত নেয়া হয় গুলীতে নিহতদের লাশ নিয়ে জানাযা শেষে ২২শে ফেব্রম্নয়ারী মেডিকেল হোস্টেল থেকে একটি মিছিল করা হবে। কন্ট্রোল রুম থেকে তা প্রচারও করা হয়। শহীদদের লাশের পাহারায় ছিলেন এখানকার ছাত্র খন্দকার মোহাম্মদ আলমগীরসহ আরো অনেকে। অবশ্য পুলিশেরা লাশ নিয়ে শেষ পর্যন্ত কবর দিয়ে ফেললে আলমগীর ও আমীর হোসেন শহীদদের করব খুঁজে বের করেন। খুব ভোরে তারা আজিমপুর কবরস্থানে গিয়ে তা চিহ্নিত করে কিছু রক্ত মাখা কাপড়চোপড় নিয়ে আসেন। বাইশে ফেব্রুয়ারির লাশ না পাওয়া যাওয়ায় গায়েবী জানাযা পড়ে এ হোস্টেল থেকে বিশাল এক মিছিল বের করা হয়। আবদুস সালাম, কামরম্নল হুদাসহ অনেক মেডিকেল ছাত্র ও এ মিছিলে যোগ দিয়েছিল। এ আন্দোলনের কন্ট্রোল রুমের ভূমিকা ছিল অপরিসীম। পাক সরকার বাইশ তারিখ বিকেলে পুলিশ ও সেনাবাহিনী দিয়ে হোস্টেল ঘেরাও করে মাইকটি ছিনিয়ে নিয়ে যায়। কেবল এসব কাজেই তাদের অবদান সীমাবদ্ধ ছিল না। অনেকে সরাসরি আন্দোলনে না জড়ালেও পরড়াভাবে আন্দোলনকে গতিশীল করতে সচেষ্ট ছিলেন। অজস্র পোষ্টার লেখা হয়েছে এ মেডিকেলের রুম থেকে। জিয়া হাসান, বদরম্নল, নুরুল ইসলাম, জাকির হোসেনসহ আরো অনেকে রাতদিন পরিশ্রম করে পোষ্টার লিখতেন। ভাষা আন্দোলনের জন্য তহবিল,
সাইদ; মেডিসিন বিভাগ অধ্যাপক এ কে এম শামসুদ্দিন, অধ্যাপক মোঃ ইব্রাহীম এং সার্জারী বিভাগ ডাঃ মেজর ডবিস্নউও, এইচ এলিসন ও অধ্যাপক গিয়াসউদ্দিনের মত প্রতিভাবন শিড়াকদের তত্ত্বাবধানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এই সকল শ্রদ্ধেয় শিড়্গকমন্ডলীর অনেকেই আজ আমাদের মাঝে নেই।
১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর কলিকাতা মেডিকেল কলেজ থেকে বিভিন্ন বর্ষের অনেক ছাত্র-ছাত্রী মাইগ্রেশন নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয় এবং এখানকার অনেকে কলিকাতা চলে যায়। কলেজ অধ্যা ডাঃ মেজর ডবিস্নউ, জে, ভার্জিন কলিকাতা চলে যান।
প্রথম দিকে কলেজের নিজস্ব কোন ছাত্রাবাস ছিলনা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য শ্রী রমেশ চন্দ্র মজুমদার মুসলমান ছাত্রদের এস, এম, হল ও ইকবাল হলে (বর্তমানে জহুরম্নল হক হল) এবং হিন্দু ছাত্রদের ঢাকা হলে (জগনæাথ হল) থাকার অনুমতি দেন। খৃষ্ঠান ছাত্ররা সদরঘাটে গীর্জায় থাকতেন। ছাত্রীদের কোন হোস্টেল না থাকায় তাঁরা বাসা থেকেই ক্লাস করতেন।
১৯৪৭ সালে বর্তমান নার্সিং হোস্টেল, শহীদ মিনার, হাসপাতাল ডিসপেন্সারীর স্থানে ছাত্রদের জন্য হোস্টেল তৈরী হয় যা ঐতিহাসিক ‘ব্যারাক’ নামে পরিচিত। প্রথমে ১১টি চেŠতলা টিনের শেড, পরে তা বাড়িয়ে ১৭টি করা হয়। আরও অনেক পরে নতুন ৩টি শেড তৈরী হয় যার মধ্যে ২০নং শেডটি বিশেষভাবে পরিচয়ের দাবী রাখে। কেননা ৫২র ভাষা আন্দোলন, ‘৫৪র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন থেকে শুরম্ন করে তৎকালীন রাজনীতির অনেক উলেস্নখযোগ্য ঘটনার পরিকল্পনা বা পরিচালনা এখান থেকেই হয়েছে। ১৯৫৪-৫৫ সালে ‘ব্যারাক’ থেকে ছাত্রদের হোস্টেল বকশী বাজারে এবং ১৯৫২ সালে কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্রীদের হোস্টেল তৈরী হয়। বিভিনce সময়ে বহু আন্দোলন-সংগ্রাম এবং কলেজ কর্তৃপড়োর চেষ্টায় ছাত্র/ছাত্রীদের আবাসিক হোস্টেলগুলো বর্তমান পর্যায়ে এসেছে। ১৯৭৪-৭৫ সালের দিকে ইন্টার্নী চিকিৎসকদের জন্য বকশী বাজারে আলাদা হোস্টেল তৈরী হয়। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ চিকিৎসকল ও ছাত্রদের স্মরণে ১নং গ্যালারীতে শোক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভার সিদ্ধাŠত্ম অনুযায়ী বকশী বাজারে ছাত্রদের হোস্টেল শহীদ ডাক্তার ফজলে রাবYী হোস্টেল ও ছাত্রীদের হোস্টেল শহীদ ডাঃ আলীম চেšধুরী হোস্টেল হিসেবে নাম করণ করা হয়।
সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্ররা বরাবরই মেŠলিকতত্বের দাবীদার। চলিস্নশ বা পঞ্চাশের দশকে এই কলেজের ছাত্রদের পরিচালিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও প্রযোজিত নাটক উপভোট করতে ঢাকা শহরের বিভিনæ অঞ্চল থেকে লোকজন সমবেত হতো। চলিস্নশের দশকে প্রযোজিত প্রথম সফল নাটক ছিল ‘মান ময়ি গার্লস স্কুল’। সে সময় মহিলা চরিত্রে ছেলেরা অভিনয় করতেন। পাবনার মতিয়ার রহমান এই দায়িত্ব সুন্দরভাবে পালন করতেন। তিনি বাংলা ছায়াছবি ‘মুখ ও মুখোস’ এ অভিনয় করেছিলেন। ছাত্র ছাত্রীদের যেŠথ প্রযোজনায় প্রথম নাটকে মহিলা চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন মেহেরম্ননেæছা, রাজিয়া খান ও নুরম্নজ্জামান মোর্শেদ। এই দুঃসাহসিক কাজের অভিনয়কারিনী ছাত্রীদের বিরম্নপ সমালোচনা সম্মুখীন হতে হয়েছিল।
১৯৫৬ সালে, এইচ সাজেদুর রহমান মাস্সানার গেওঁরবও এই কলেজের ছাত্রদের। কলেজ চতুর ছাড়াও নৃত্যনাট্যটির কার্জন হলে প্রদর্শিত হয়েছিল। পঞ্চাশ দশকের ছাত্র শাজাহান হাফিজ তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্সান রেডিওর একজন ১ম সারী রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী ছিলেন। চলিস্নশ ও পঞ্চাশের দশকে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আরও যারা জড়িত ছিলেন তাঁদের মধ্যে তখনকার শিড়াক ডাঃ শাকুর, ডাঃ শামসুল আজম, জি হাসান, আবুল হাশিম, বদরম্নল হায়দার,শফিকুর রসুল প্রমুখ উলেল্লখযোগ্য।
সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড পরিচালনার জন্য প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ পর্যŠত্ম অনেক সংগঠন আত্মপ্রকাশ করলে পঞ্চাশের দশকে ‘শিল্পী সংঘ’ ‘উর্মী, ষাটের দশকে কার্টুন দেয়াল পত্রিকা ‘মিকচার’, শনিবারের সাহিত্য’, সত্তর ও আশি দশকে আলোচনা চক্র’, ‘অনিয়মিত’, উবসী’, ‘প্রাক্সিস অধ্যায়ন, মেডিকোস থিয়েটার প্রভৃতি উলেস্নখযোগ্য। অনেক সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রধান সাংগঠক কলেজ থেকে পাশ করার পর ঐ সংগঠনের বিলুপ্তি ঘটেছে।
বিভিনæ সময়ে অনুষ্ঠিত আত্মঃ মেডিকেল কলেজ সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় এই কলেজের অবস্থান প্রথম সারিতে। বাংলাদেশ টেলিভিশন আয়োজিত বিতর্ক প্রতিযোগিতা, জ্ঞান জিজ্ঞাসা প্রভৃতি অনুষ্ঠানেও এই কলেজের ছাত্রদের বিশেষ পরিচিতি রয়েছে।
বর্তমানে নাট্য সংগঠন ‘মেডিকোস থিয়েটার কয়েকটি জনপ্রিয় নাটকের সকল মঞ্চায়ন করে সুধীমহলে বেশ সাড়া জাগিয়েছে।
অডিটোরিয়াম স্থাপনের একটি দাবী মেডিকেল কলেজের অনেকদিন থেকেই ছিল। বিভিন সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড পরিচালনায় প্রচন্ড অসুবিধা হয়। কলেজের নেতৃবৃন্দের ঐকাত্মিক চেষ্টায় এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে বর্তমানে কলেজের পশ্চিম পার্শ্বে ১০০০ হাজার আসন বিশিষ্ট একটি অডিটোরিয়াম নির্মিত হয়েছে।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই কলেজের ছাত্ররা খেলাধুলার অঙ্গনের পরিচিত। ১৯৪৯-৫০ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ‘ক্রিকেট দল’ আত্মঃ কলেজ চ্যাম্পিয়ান হয়েছিল। এই কলেজের প্রথম ছাত্রসংসদের এ্যাথলেটিকস সেক্রেটারী মাজহারম্নল ইসলাম দামাল বার্মা সফরকারী তৎকালীন পাকিস্সান ক্রিকেট দলের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড ‘দামাল সামার